জীবনের গল্প
জীবনের গল্প"
মোঃ খালিদুর রহমান
২১ শে মে'২০২৪
জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণে ভুল করায় ২০০০ থেকে ২০১৫, সর্বমোট ১৫ টি বছর ধুলিস্যাত করেছি।বুঝিনি আমি কি করবো, আমার কি করা উচিৎ।কলকারখানা,এন জি ও,কিন্ডারগার্টেন, কোচিংএ শিক্ষকতা, সিঙ্গাপুরে ১ টি বছর,! ১ টি বছর নেটওয়ার্ক মার্কেটিং
একেবারে হযবরল অবস্থা।
অশান্তি,
অস্থিতিশীলতা,
পরিবার- সমাজে তুচ্ছতাচ্ছিল্য!
সবই ভাগ্যে জুটেছে।
আল্লাহপাক টিকিয়ে রেখেছেন কোনমতে।
সর্বশেষ সিঙ্গাপুর থেকে ফিরে সিদ্ধান্ত নিলাম প্রয়োজনে প্রাইভেট পড়িয়ে খাবো, কিন্তু বিদেশ গিয়ে আর কামলা দেবনা।
২০১৩ তে সিঙ্গাপুর স্কিল ট্রেনিং এবং ৮ম শিক্ষক নিবন্ধন একই সাথে পাশের ফল বেরোয়।আমার তখন বিদেশ যাবার ইচ্ছেটা মরে গেলেও পরিবারের সবার চাপে বিদেশ যেতে বাধ্য হই।অতঃপর যা হবার তাই হল।২০১৪ এর পুরোসময় জুরে সিংগাপুর থেকে ১৫ তে দেশে আসি।
সেপ্টেম্বর,২০১৫ তে যোগিনীমুরা উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করি। নিবন্ধন সামাজিক বিজ্ঞানে হলেও আমার পাঠদানের বিষয় ইংরেজী। শিক্ষকতা পেশায় নিয়মিতভাবে আজ ৯ বছর চলমান।
এর আগে প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনিয়মিতভাবে বহুদিন কাজের অভিজ্ঞতা ছিল।কিন্তু হাই স্কুলে ছুটিছাটা, প্রয়োজন পরিমান নূ্নতম অর্থ
এবং সামাজিক মর্যাদা মোটামুটি আছে।
একজন শিক্ষকের জন্য শ্রেণীকক্ষ হচ্ছে তার যুদ্ধক্ষেত্র।
শ্রেণীব্যাবস্থাপনা,
সফল পাঠদান,
মুল্যায়ন,
সব মিলিয়ে প্রতিটা ক্ষেত্র শিক্ষকের জন্য এক একটা চ্যালেঞ্জ।
ইতোমধ্যে ২০২২/২০২৩ শিক্ষাক্রম পরিবর্তন শিক্ষকতা পেশাকে আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে।
নতুন কারিকুলাম অনুযায়ী নেই শিক্ষকের যথেষ্ট প্রশিক্ষনের সুযোগ। নেই কর্তাদের যথাযথ মনিটরিং।নেই অভিভাবকদের সহযোগিতা।
এখন এই ডিজিটাল স্মার্টফোন,ইন্টারনেটের যুগে ছেলেমেয়েদের চাহিদাপুরণে আমরা যথেষ্ট সম্মৃদ্ধ নই। নেই প্রয়োজনীয় উপকরন, নেই দক্ষতা সম্পন্ন শিক্ষক, নেই আন্তরিক ব্যাবস্থাপনা।
পানি সব সময় গড়ায় নিচের দিকে।অর্থাৎ কারিকুলাম বাস্তবায়নের দায়িত্ব গিয়ে বর্তায় পুরোটাই শিক্ষকের ওপর।
কিন্তু শিক্ষক হিসেবে আমি আমার যোগ্যতা প্রদর্শনের সুযোগের সদ্ব্যাবহারে সক্ষম হতে পারছিনা। ছেলেমেয়েরা রেসপন্স করছেনা বা করাতে পারছিনা।
দরকার ছিল আরও বেশি প্রশিক্ষনের। সুযোগ নেই।
দরকার ছিল আরও বেশি গবেষনার।
সময় নেই।
দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির এই যুগে এসে চাকুরীর পাশাপাশি এক্সট্রা ইনকামের অংশ হিসেবে টিউশানী করতে হয় সকাল বিকাল।মানুষের বাসায় গিয়ে টিউশানী করাটা সম্মানজনক না হলেও করার কিছু নেই।
ঋণ করে জমি কিনেছি।কিস্তি কেটে নেয় বেতনের ৭৫ শতাংশ।মোটরসাইকেলের তেল খরচ ৩/৪০০০ টাকা। বেতনের টাকা শেষ।
আমার এ্যাজমা রোগের ঔষধ খরচ, আম্মাকে মাসিক খরচ প্রদান, ছেলের টিউশন ফি সবমিলিয়ে আরও কমপক্ষে ১০/১২০০০ টাকা দরকার।কোথায় পাবো? ব্যাবসা করবো? পুঁজি নেই।
টিউশানী করা ছাড়া কোন উপায় আছে?
সেখানেও সিন্ডিকেট।পরিচিত ছাড়া টিউশানী পাওয়া যায়না।টিওশানী যেকোন মুহুর্তে চলে যেতে পারে।
দুটো পয়সা কামাই করে খাওয়া এই জগতে কঠিন কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন