ডাইনী মা সমাচার

 


ডাইনী মা"
কবি এম এইচ মুকুল (৯৪ বন্ধু)

গত  কাল বিকেলে গাঙচিল শেরপুরের সভাপতি কবি ও সাংবাদিক  আঃ মজিদ ভাই ফোন দিয়ে বললেন নালিতাবাড়ী উপজেলা গাঙচিল কমিটির অনুমোদন উপলক্ষে সাহিত্য আড্ডা আছে,চলে আসেন।মোটরসাইকেল স্টার্ট দিয়ে  খরমপুর মোরে উপস্থিত হলাম।একটু পরেই ফোন দিলেন ডাইনী মা এবং বীরহী বসন্তের কবি এম এইচ মুকুল, "খালিদ ভাই, আমার পায়ে ব্যাথা, আমাকে নিয়ে যায়েন।"

যথারীতি আমার মোটরসাইকেলে মুকুল এবং সাংবাদিক শামীমের মোটরসাইকেলে মজিদ ভাই এবং পথে সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর ভাইকেও নিয়ে নিলাম।
তারপর মুকুলের সাথে অনেক ব্যাক্তিগত আলোচনার একপর্যায়ে তার জীবনের ট্রাজেডি শুনতে পেলাম।

ভালবাসার মানুষ যখন ছেড়ে চলে যায়,তাও নিজের গর্ভের সন্তানকে রেখে ;সেই দূঃখ রাখার জায়গা  পাওয়া সত্যিই দূষ্কর।

তবে মুকুল তার দূঃখের সবটুকু উজার করে দিয়েছেন তার স্বরচিত "ডাইনী মা" পুঁথিকাব্যে।

একজন নারী যাকে হৃদয়ের সবটুকু ভালবাসা দিয়ে তিল তিল করে তার ভবিষ্যত সহ গঠন করে দেয়ার পরেও বিশ্বাসঘাতকতা  করে, আপন সন্তানকেও ফেলে চলে যায় চাকুরী এবং পরকীয়ায় জড়ায়, তাও এক নয় একাধিক জনের সাথে।সেতো ডাইনীই বটে।

তবে একজন মা যে এমন জঘন্য ডাইনী হতে পারে, ইতিহাসে এটাই বোধ হয় প্রথম। ছলনা করে ছেলেকে বাবার কাছ থেকে সরিয়ে  নিজের কাছে নিয়েও ছেলের অসুখে সুচিকিৎসা না করার অর্থ তিলে তিলে ছেলেকে মেরে ফেলা।হলোও তাই।

শিহান চলে গেল। মুকুলের পিতাও  দুর্ঘটনায় মারা গেল।আর ঐ ডাইনী তো আগেই চলে গেছে।

একজন মানুষের জীবনে হারাবার আর কি থাকতে পারে?

সব হারিয়ে কবি পণ করলেন, ঐ বিশ্বাস ঘাতকিনীর ছলনার প্রত্যেকটি মুহুর্ত পুঁথির আকারে  পাঠকের কাছে পৌঁছে দেবেন।যেন পাঠক  ছলনাময়ী নারী থেকে সাবধান হয়।

বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে পুঁথি একটি হারানো ঐতিহ্য।আমরা ছোটসময় দেখতাম বিভিন্ন লোকসমাগমের স্থানে, বড় গাছের তলে একজন সুর করে করে পুঁথি পাঠ করছেন, আর পাঠকেরা তন্ময় হয়ে শুনছেন। তখনকার পুঁথিকাব্য বলতে ইউসুফ জোলেখার প্রেমকাহিনী, বিবি সোনাভান সহ আরও বিভিন্ন বীররসের কাহিনী অথবা কোন লোকগাঁথা।

ডাইনী মা কবির ব্যাক্তি জীবনে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক কাহিনীর কাব্যিক রুপ।কবির প্রচেষ্টা বৃথা যায়নি।ডাইনী মা পাঠকের কাছে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। একাধিক পুরষ্কার ও সম্নাননা প্রাপ্ত হয়েছে।

সেই দিন হয়তো দূরে দূরে নয়, ডাইনী মা একুশে পদক, বাংলা একাডেমী পুরস্কারের মত জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পুরষ্কারের জন্যেও মনোনীত হবে।

আর ডাইনী মহিলাটিও দূর থেকে দেখুক সে কি হারিয়েছে.......

খালিদুর রহমান
কবি
আমার কলম
২৯/০৬/২০২৪

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

যোগিনীমুরা উচ্চ বিদ্যালয়,শেরপুর

শাহিন মিয়া,বিএসপি,প্রতিষ্ঠাতা(Dohps

মুক্তিযোদ্ধা নওয়াব আলী