শেরপুরের নামকরনের ইতিহাস

 

শেরপুর নামকরণের ইতিহাস

মুঘল সম্রাট আকবরের শাসনামলে এই এলাকা "দশকাহনিয়া বাজু" নামে পরিচিত ছিলো। সেই  আমলে এই এলাকায় যাতায়াত করতে ব্রহ্মপুত্র নদের খেয়া পাড়ি দিতে হতো। খেয়া পারাপারের জন্য দশ কাহন/কড়ি নির্ধারিত ছিলো বলে এ এলাকা দশকাহনিয়া নামে পরিচিতি লাভ করে বলে জানা যায়। ভারতের ধর্মীয় গ্রন্থ সহ বিভিন্ন গ্রন্থে জাদুবিদ্যার পরাকাষ্ঠা যে ‘কামরূপ’  ( কামরূপ/কামাখ্যা/কলতাই) রাজ্যের বর্ণনা পাওয়া যায়, সেই ‘কামরূপ’ রাজ্যের অধীনস্ত একটি বাজু ( প্রশাসনিক এলাকা/ প্রদেশ ) ছিলো এই  দশকাহনিয়া'। দশকাহনিয়া' বাজুর রাজধানী ছিলো ‘গড়জরিপা’৷

এই ‘কামরূপ’ রাজ্যের পতনের পর বিভিন্ন ছোট ছোট রাজ্য, কখনও স্বাধীন, কখনও শামন্ত রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়৷ এসব শামন্ত রাজ্যের একটি বাজু (প্রশাসনিক এলাকা/প্রদেশ/অঙ্গরাজ্য ) ‘দশকাহনিয়া’৷ এই ‘দশকাহনিয়া’ বাজুরও রাজধানী ‘গড়জরিপা’, যা বর্তমানে একটি গ্রাম (স্থাপনা – বারো দুয়ারি মসজিদ, কালিদহ সাগর এবং ...)৷

এই দশকাহনিয়া বাজু এক সময় ঈশা খাঁর দখলে আসে এবং বংশ পরম্পরায় শাসন করেন। পরবর্তীতে সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথম দিকে ভাওয়ালের গাজী, ঈসা খানের বংশধর থেকে দশকাহনিয়া এলাকা দখল করে নেয় এবং বংশ পরম্পরায় শাসন করতে থাকে। এই  গাজী বংশের  প্রজাহিতৈষী তরুণ জমিদার ‘শের আলী গাজী'  সেই আমলে প্রভাবশালী বেশ কিছু হিন্দু জমিদার ও সভাসদদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে জমিদারি হারিয়ে তাঁর খামারবাড়িতে দিন যাপন করেন৷ তার সেই খামারবাড়ি এলাকাটি বর্তমানে ‘গাজীর খামার’ নামে প্রতিষ্ঠিত ৷
মহীয়ান এই জমিদার ‘শের আলী গাজী’-র নামানুসারেই এর নাম ‘শেরপুর’৷

  ওয়ারেন হেস্টিংস থেকে কর্ণওয়ালিস-এর সময়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এবং স্থানীয় জমিদারদের বিরুদ্ধে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ অনুষ্ঠিত হয়; ফকির আন্দোলনের নেতা টিপু শাহ এই এলাকায় সার্বভৌমত্ব ঘোষণা করে এবং গরজরিপার তার রাজধানী স্থাপন করেন। খোশ মুহাম্মদ চৌধুরীর নেতৃত্বে শেরপুরের কামারের চরে ১৯০৬, ১৯১৪ ও ১৯১৭ সালে কৃষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ১৮৩৮-৪৮ সালে নানকার, টঙ্ক, বাওয়ালী, মহাজনী, ইজারাদারি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে শেরপুরে কমিউনিস্টরা বিদ্রোহ করে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

যোগিনীমুরা উচ্চ বিদ্যালয়,শেরপুর

শাহিন মিয়া,বিএসপি,প্রতিষ্ঠাতা(Dohps

মুক্তিযোদ্ধা নওয়াব আলী