রোবট
৫১৮
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষতার ফলে মানুষের জীবন,জীবিকা,সংস্কৃতি সবকিছুতেই ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।আজ থেকে মাত্র ৪০/৫০ বছর আগে আর বর্তমান সময় চিন্তা করে দেখুন কত তফাত সবকিছুতে।চলুন টাইম মেশিনে চরে আজ থেকে ৫০ বছর পরে ভবিষ্যতে যাই........
ঘুম থেকে ডেকে তুললো রোবট কেটু১।মিঃ খালিদ প্লিজ, ওয়েক।নাও ইট ইজ টাইম টু গো টু অফিস।ডন্ট স্লিপ এনি মোর।প্লিজ কাম অন ডিয়ার।
চোখ কচলে ঘুম থেকে ওঠে বসলাম।পারসোনাল রোবট কেটু ১ নিজে থেকেই ডিজিটাল বেড এর এক কোনায় রাখা রিমোট চেপে আমাকে ওয়াশরুমে ঢুকিয়ে দিল ।ওঠে দাড়ানোর, বসার কোন প্রয়োজন নেই। অটোমেটিক মেশিনে হাইকমোড টয়লেটে সেট হয়ে গেলাম।টয়লেট শেষ হলে শৌচ কর্ম হয়ে গেল।তারপর দাঁড়ালাম ব্রাশ করার জন্য।কেটু ওয়ান আমাকে ব্রাশ করিয়ে দিচ্ছে। আমি শুধু মুখটাকে ব্রাশ করার উপযোগী করেছি। হাতমুখ ধোঁয়ার পর পুনরায় আমার বাহক রোবট কেটু ওয়ান আমাকে বেডরুমে চালান করে দিয়ে পোষাক পরতে সাহায্য করলো।
আপনাদের ব জানাচ্ছি যে আমি ব্যাচেলর লাইফ করি।বিয়ে একটা করেছিলাম বটে।কিন্তু সে বিয়ে টিকেছিল মাত্র এক বছর।বনিবনা হয়নি।আমার চিন্তার সাথে ওর চিন্তার মিল হয়নি।তাই সেপারেশন হয়েূ গেছে।এখন সে কোথায় আছে, কেমন আছে জানিনা,জানতে চাইওনা।
আমি ব্যাক্তি স্বাধীনতা এবং ব্যাক্তি স্বাতন্ত্রে বিশ্বাস করি।পরিবার মানুষের মৌলিক চাহিদা পুরনে যেমন সহযোগী, তেমনি বিভিন্ন পরিস্থিতিতে প্রতিবন্ধকও বটে।এখন আমি স্বাধীন জীবনযাপন করি।কোন দায়-দায়িত্ব নেই।কোন ঝামেলা নেই।সারাদিন গবেষনা,অফিসিয়াল ডিউটি,অনলাইন সভা সেমিনার, লেখালেখি,অনলাইন আড্ডা,রোবট কেটু ২ নারী সংস্করণের সাথে খুনসুটি।
সব মিলিয়ে বেশ আছি।
কেটু ২ আমার স্ত্রীর ভূমিকা পালন করে।ইউ এস এ থেকে আমদানী করেছি।পুরো অবয়ব জুড়ে একজন পরিপূ্র্ণ নারী।হাজার রকম চোখের ইশারা।শত রকম হাসি।মুখ ও ঠোঁটের অভিব্যাক্তি।শারিরিক গঠন কাঠামোতে একজন পরিপূর্ণ নারী।কেটু ২ আমার সকল রকম চাহিদা মেটাতে সক্ষম।প্রোগ্রামগুলো এমনভাবেই সেট করা, যে আমার চোখের ইশারাতেই সে একজন পরিপূর্ণ গৃহিনীর মত আমার সব কিছু বুঝে যায়।
প্রতিমাসে কোম্পানীর রিপ্রেজেনটেটিভ এসে সার্ভিসিং করে দিয়ে যায়।কোথাও কোন ব্যাত্যয় ঘটেনি।
আমি কেন মানুষ মহিলার যন্ত্রণা সহ্য করতে যাবো?
আজ মঙ্গল গ্রহের বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নয়নে ওয়ার্ল্ডপ্রেসিডেন্ট হাউসে এক উন্মুক্ত কর্মশালা ছিল।ঝাড়া ১৫ মিনিটের বক্তৃতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে গর্বিত। জনবহুল বদ্বীপ বাংলাদেশে রয়েছে প্রচুর শিক্ষিত বেকার।এদেরকে আই সি টিতে দক্ষকর্মশক্তি হিসেবে গড়ে তুলে মঙ্গল গ্রহের প্রতিটি ওয়ার্ডে, প্রতিটি ষ্টেশনে এক এক জন দূর্ধর্ষ স্পাই কাম সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে জনশক্তি রপ্তানি করা যেতে পারে।
মঙ্গল গ্রহ একটি অনাবাদী কিন্তু বিশাল সম্ভাবনাময়ী গ্রহ।এর রয়েছে প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ।সোনা,হীরে,চুনি,পান্না,ইউরেনিয়াম সহ আরও কত কিসের খনি.....
এসব খনি খনন খনন করতে শুধুমাত্র কম্পিউটারে সব সমস্যা সমাধান হয়না।কিছু জীবনবাজি রাখার মত সাহসী,দেশপ্রেমিক কর্মী দরকার। বাঙলাদেশে এমন কর্মীর খনি রয়েছে।শুধুমাত্র একটু পৃষ্ঠপোষকতা দরকার। বাংলাদেশ সরকার প্রধান কে এ ব্যাপারে দৃষ্টি প্রদানের সবিনয় অনুরোধ করছি।
রোবট কেটু ১ তার ধাতব গলায় আমাকে রিমাইন্ড করিয়ে দিল, মিঃ খালিদ, টুডে ইউ হেভ আ প্রোগ্রাম ইন দা প্লানেট মার্স এট টেন এ. এম. সো প্লীজ গেট রেডি হারিলী!
ও, থ্যাঙ্কিউ ডিয়ার, আই এম গ্রেটফুল টু ইউ।আই এম গেটিং রেডি
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন