পুঁথিকাব্য
সাগরদীঘির উপকথা নিয়ে
পুথি কাব্য
৫৫৮
খালিদুর রহমান
০২.১১.২০২৪
শুনেন শুনেন দেশবাসী শুনেন দিয়া মন
সাগরদিঘীর কাহিনীখান করিব বর্ণন
টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানার পূর্বপ্রান্তে ভাই
সাগরদিঘীর ইতিহাসটা আমি বলে যাই,
লেখাজোখা নাইতো কোথাও লোকমুখে শোনা
সত্যমিথ্যা জানিনাতো বিশ্বাসে নাই মানা,
আজি হতে সাতশ বছর আগের দিনের কথা
পালবংশের সাগর রাজা ভাঙলো নিরবতা,
পাহাড় অঞ্চল,বনজঙ্গল এলাকাটা ভালো
পরিবেশটা পছন্দসই রাজ্য হবে আলো
সেই থেকে গাড়লো ঘাঁটি গড়লো রাজ্য তার
শিকারেতে গিয়ে দেখে কমলা সুন্দরীর হার,
রুপের ঝলক নাকের নোলক সেন বংশের মেয়ে
পাগল হয়ে প্রস্তাব পাঠায় করবে তারে বিয়ে,
অবশেষে বিয়ে হল সুখের সংসার
চাঁদের কনা লক্ষী সোনা গায়েরও রং তার,
বংশের প্রদীপ ছেলে হল বয়স এক বছর
সেই সময়ে খড়া এলো পুড়ে সব ছাড়খাড়
চারিদিকে শোনা গেলো সবার হাহাকার,
জীবন বিপন্ন হয়ে যায় কিছু করা দরকার,
সেইসব দিনে পানির অভাব ছিল মারাত্মক,
মেঘ গেলো গলা ফাটায় পাখি যে চাতক
,
নেইকো ফসল কেনাবেচা আকাল যে দারুন
প্রজাসকল সাগর রাজায় মিনতি করুণ
অনেক ভেবে সিদ্ধান্ত নেয় করবে দিঘী খনন
হাজার শ্রমিক ৩ টি বছর দেয় যে শ্রমের বুনন
বিশাল দিঘী তৈরী হল পানি যে তার নাই
মাটিকাটা কোদাল ধুইতে কোদাল দহ হয়,
কোদাল দহে পানি ওঠে সাগরদীঘি নয়
এই সমস্যার সমাধানটা সবারে জানাই,
পানির অভাব মিটলোনা যে কেমনে কি করি?
রাত্রিদিনে রাজায় ভাবে চিন্তায় যায় মরি
,
ঘুমের ঘোরে স্বপ্নের মাঝে কয় বাবা সাধু
সাগরদিঘীর পানি হবে প্রাণ দিলে বধু,
এমন কথা শুনে রাজার প্রাণ কেঁপে ওঠে
কমলা বিবির প্রাণের তরে জল পাবে বটে,
বিষন্ন মন সর্বক্ষণে বন্ধ রাজার কাম
প্রাণের বিবির বিদায় খবর ঝরে তাহার ঘাম,
এই খবরটা কেমনে বলি প্রাণের বিবিরে
বিবির বীরহের খবরে বুক যে যায় চিরে,
মলিন রাজার মুখটা দেখে বিবির মন দোলে
কি হয়েছে প্রাণের স্বামী বলুন মন খোলে,
কেমনে সইবো ওগো সখি তোমার বিয়োগ ব্যাথা,
সাগরদিঘীর পানি আসবে জীবন দিলে হেথা,
প্রজার সুখে তোমার জীবন হবে বিপন্ন
এই খবরে কেমনে উঠবে আমার মুখে অন্ন,
শুনেন শুনেন সাগর রাজা প্রাণের স্বামী জান
প্রজার সুখে আমার জীবন করবো আমি দান,
এই বলিয়া কমলা বিবি গেল দিঘীর পার
একে একে খোলে দিল আপন অলঙ্কার,
পাড়ে বসে প্রজাসকল ফেলে চোখের জল
মাতৃসম রাণীর জীবন হল যে বিফল,
মাঝ বরাবর কমলারাণী যখন রাখে পা
ধীরে ধীরে জলের ধারায় ভিজলো রাণীর গাঁ,
চোখের জলে দিঘীর জলে হলো একাকার
রইলো সন্তান দেখবেন স্বামী চাইনা কিছু আর,
কেমনে সহে সাগর রাজা কঠিন বীরহ?
এই যে কষ্ট কি পরিমান তোমরা সবে কহ!
রাজকুমারে কান্না করে মায়ের শোকে ভাই
সাগর রাজার কষ্টের কথা তোমারে জানাই,
একাধারে কেঁদে চলে প্রাণের রাজকুমার
কি করে যে দূর করিব দূঃখ যে তোমার!
দিনেরাতে কুমার কাঁদে মাতৃ বিরহে
দূধের শিশু মার মৃত্যুটা কি করে সহে?,
এই ভাবেতে দুচারদিন যায়যে কোনমতে
কান্নাকাটি সব থেমে যায় কোন একটি রাতে,
সকাল বেলা রাজা দেখে পুত্র তার ঘুমে
এমন শান্ত শিষ্ট সে মুখ দিয়ে যায় চুমে,
কুমার মুখে মায়ের দূধের মিষ্টি সে গন্ধ
কি করে হয় মনের মাঝে লেগে যায় সন্দ,
একরাত্রেতে সাগর রাজা সাঙ্গ পাঙ্গ নিয়ে
দেয় পাহারা রাজকুমারে কে যায় দূধ খাইয়ে,
রাত বারটা ঘোর অন্ধকার দরজাটা খোলে
কমলারাণী ঘরে ঢুকে কথা নাহি বলে,
রাজকুমারে বুকের দূধে করে যায় যত্ন
মায়ের মনতো আর মানে নাই হারানো রত্ন,
সাগর রাজা ঘিরে ধরে কমলারানীর হাতে
পুলকিত মন হয়ে যায় রাণীর মোলাকাতে
,
শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে রাজা তারে চায়
ভুল করলেগো সাগর রাজা আটকিয়ে আমায়!
চিরতরে কমলারাণী দিল ডুব দিঘীতে
আবেগ নিয়ন্ত্রন না করলে হিতে বিপরীতে
,
সাগরদিঘীর উপকথা আছে লোকমুখে
ব্যাবসাপাতি এই এলাকায় করে লোকে সুখে,
পশ্চিম পাশে রিসোর্ট আছে বিদেশী নির্মান
দৃশ্যখানা দেখতে ভাল দেখতে চাইলে যান,
উত্তরপার্শে গার্লস স্কুল দক্ষিনে মাদ্রাসা
বাজার খানা বিরাট বড় জাগায় মনে আশা,
তারও পূর্বে থানাভবন করেছে সরকার
ঘোষনাটা চুড়ান্ত হোক এলাকার দরকার,
কলকারখানা গড়ে ওঠে এ এলাকায় বেশ
শিক্ষাদীক্ষায় খুব উন্নতি সর্বত্র তার রেশ,
সাগরদীঘি ইউনিয়নটা নতুন সেদিন হল
এরিয়াটা অনেক বড় দেখতে সবাই চল,
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন