খালিদুর রহমানের কবিতা
০১
জীবনের প্রতি পদে এক একটি
কবিতার স্তবকের দেখা মেলে,
ভুল কথা,ভুল কাজ,ভুল চিন্তা
আর ভুল মানুষের কাছে শেখা
এক একটি অভিজ্ঞতা
নবজাতকের মত
বিস্ময়াভিভূত করে.....
নির্বোধ বালকের মত
বারংবার হোচট খেয়ে
ছাল ছিড়ে যায় হাঁটুর,
তবুও জাগ্রত হয়না বোধ,
আর কতবার! আর কত বার
ভুল করলে মানুষ হব!
নাকি অযোগ্যের দায়ভার
বয়েই হবে প্রস্থান?
আমার মৃত্যুর পরে
সব চলবে আগের মতই,
অথচ কি এক মরিচিকার পেছনে
ধাবমান শ্বাশ্বত কাল!
পায়ের তলায় মাটি ছিলোনা যখন,
সেদিনের জল ভরা চোখেও
ছিল প্রশান্তির ছায়া!
আকাঙ্খার নিবৃতি হবেনা জেনেও কৃষ্ণগহ্বরের দিকে ছুটে চলা!
কেন? কিসের আশায়?....
একটি ভুলের তরে আদি পিতামাতার
আগমন পাপ পঙ্কিল এ ধরায়,
সর্বত্র তার জাল,
সারাক্ষণ গ্রেফতার আতঙ্ক!
বাহিরে ইবলীশ! ভেতরে নফস!
আশ্রয় শুধু মালিকের কাছে!
কিন্তু এই মূর্খের ডাক তাঁর কাছে
কতটা গ্রহন যোগ্যতা রাখে?
আমি মানুষ হতে ছুটে যেতে চাই
তাঁর কাছে,যে দেবে আমারে শান্তনা
স্রষ্টার সাথে যার অগাধ প্রেম
আমি তাঁরে খুঁজি লোকালয়ে!
সে কি গুহামানবের মত
লোকচক্ষুর অন্তরালে?
নাকি পাপচোখে তাঁরে চেনা দায়?
০২
আজ বহুদিন বহুমাস পরে
গোধূলী বেলায় ফিরেছি ঘরে,
হেথা হাহাকার চারিদিকে
বেলাশেষে দিগন্তের রং হল ফিকে,
কতজন, কত মুনী ঋষি এলো গেলো
সে হিসেব কে রাখে কে কি পেল না পেল,
শুন্য হাতেই এসেছিনু তবু ভরেনাতো অন্তর
কত কথা,কত সুর মনে আসে কত মন্তর,
যারা আজ স্মৃতি তাহাদের তরে গাঁথা
ধুলি ধুসরিত মলিন পোষাকে গায়ে কাঁথা
রাত নেমে এলে মাথা গুজিবার ঠাঁই
এই পৃথিবীতে আজ কেহ বেঁচে নাই,
আমি একা নিঃসঙ্গতা কূঁড়ে কূঁড়ে খায়
ওই শোনা যায় নিশাচর পাখি গান গায়,
আজ বাদে কাল নিশ্চিহ্ন হবে অস্থি
তবু কেন ভয়! মনে আসেনাতো স্বস্তি!
০৩
সোনার হরিনের খুঁজে ঘুরেছি বন জঙ্গল প্রান্তর
দেখা মেলেনিতো তবু মানেনাতো এই অন্তর,
বারে বারে ফিরে আসে মরিচিকাসম ভালবাসা
শুন্য হৃদয় ভরেনাতো কভূ মেটেনাতো কোনআশা,
ধূসরিত ক্যাশে মলিন এক বেশে ঘুরেছি কতদেশে
শান্তির দেখা পাইনিতো কোথা সাগরের বুকে ভেসে,
বাতাসের পিঠে ফিরেছি স্বদেশ করেছি অনুসন্ধান
দূঃখের দিন হয়নিতো শেষ ভাঙ্গেনিতো অভিমান,
কত কথা সুর হয়ে ভাসে ভাঙ্গে শুনশান নিরবতা
দেয়ালের কানে শোনা কথা বলে দেয় এক বারতা,
প্রস্থানরত অভিনেতা ফিরে দেখেনাতো নাটমঞ্চ
তোমাদের বুকে কেন বেজে ওঠে এত প্রপঞ্চ?
০৪
জান্নাত বহুদূরে! তার মিষ্টি সুবাস
জুটিবেনা বুঝি কাঙ্খিত আবাস,
পাপতাপে পুড়ে ছাঁই হল অন্তর
বোধ তবু জাগেনা,খাটেনাতো মন্তর,
মুনাফেকি চিরজাগরুক স্বভাবে
কি উপায় হবে! আছি বড় অভাবে,
কি যে চাই বুঝিনাতো সুখ কোথা!
হৃদয়ের কোনে বেজে ওঠে ব্যাথা,
হারানোর কিছু নাই তবু ডরাই
না পাওয়ার ছলে পেয়ে মন ভরাই,
যা কিছু অগোচরে তার শেষ নাই
গোচরিত যাহা তাহা পদে পদে হারাই,
এভাবেই একদিন চলে যাবে নিঃশ্বাস,
যাবেনাকো ভুলে এ আমার বিশ্বাস!
০৫
মায়ের হাতের আমের স্বাদ
অসাধারন! যায়না বাদ
কাঠাল,লিচু,কলা, কলাই
না খেলে যে মিষ্টি ধুলাই,
বকুনি আর তিরস্কার
স্মৃতিতে সব পুরষ্কার,
বয়স বেড়ে আজ অচল
আদেশ তবু কর গোসল,
পেট পুড়ে তুই ভাত খেয়ে যা
দূপুর বেলায় ঘুমোতে যা,
মা নেই যাহার সেই বুঝে
স্নেহের কাঙ্গাল সেই খুঁজে,
বাবার মত বটের ছায়া
আকাশ সমান কি যে মায়া!
যায়না বুঝা, নয়তো সোজা
বাপের মত হওয়া,
দূঃখ চেপে হাসির কথা কওয়া,
কিংবা শাসন! আজকে কোথা?
অসহায়ের মনের ব্যাথা
কে আর বুঝে? স্রষ্টা ছাড়া?
প্রতিদিনের এত তাড়া!
নেইতো সময় মাতাপিতার তরে,
নিজেই পিতা হলেই হৃদয় ডরে,
দাবিদাওয়া কচিমুখের হাসি
বলুন দেখি কে না ভালবাসি?....
০৬
চল আজ ফিরে যাই গুহাতে
নিষ্পাপ পরিবেশ পোহাতে,
পদে পদে আজ শুধু জঞ্জাল
মুখে তবু ভাষা বেশ প্রাঞ্জল,
চিন্তা,কথা আর কাজে
অমিলের ঘন্টা বারবার বাজে,
ইমানের ত্যাজ আজি নিষ্প্রাণ
বেসুরে গেয়ে যাই কত গান,
যমদূত কখন যে হানা দেয়
আদরের নফসটা কেড়ে নেয়,
মুনকার,নকীরের সওয়ালের
কি হবে? গরুগুলো গোয়ালের
ডেকে গেলে হাম্বা,বাড়ীগাড়ী নারী আর ক্ষমতা
কাজে কিছু লাগবেনা পরিজন মমতা
হাশরের ময়দান হতাশায় খানখান,
দাবানলে পূড়ে ছাই সুন্দর দেহখান,
কি জবাব স্রষ্টার সম্মুখে দাঁড়ালে
থাকবেনা কোন কিছু আড়ালে,
পিতা,মাতা,সন্তান,ভার্জা সবে পর
ক্ষনিকের দূনিয়ায় বেধেছিনু যে ঘর,
কোথা তার মুল্য! বেঁচে থেকে নির্বোধ
শত কোটি ঋণগুলো হলনাতো পরিশোধ,
মাবুদের দয়া যদি নাহি মিলে
রাসুলের শাফায়াত নাহি পেলে,
কি উপায় অগ্নিতে ঝলসে?
পাপে মজে নফসটা জলছে,
বোধ তবু জাগেনাগো কেন আজ!
বাহিরেতে শয়তান, নফসের নাই লাজ,
মালিকের দয়া তবু করে যাই ভিক্ষা
দূর্দিন দূর হবে পেলে পরে শিক্ষা,
০৭
কৃষকের মুখে হাসি দেখে ভাল লাগে
অর্থের চাকা ঘোরে মনে সাধ জাগে,
স্বপ্নের ডানা মেলে উড়ে বহুদূরে
নবান্ন উৎসব প্রতি মোরে মোরে,
পিঠাপুলি আয়োজন আত্বীয় খুশি
আরো বেশি খুশি হয় আমাদের পুষি,
মিও মিও ডেকে ওঠে কূলে আদরে
ঢেকে নিই মায়া ভরা দামী চাদরে,
কতদিন যাইনাকো জননীর কাছে
কত কথা কত সূর জমা হয়ে আছে,
বকুনির চোটে কানে যদি লাগে খিল
ছোটবোন এসে পিঠে দিয়ে যায় কিল,
দাদা তুমি কোথা ছিলে এতদিন পরে
কেন বল আসনিগো আপনার ঘরে.....
০৮
বর্ষার আগমনে হৃদয়েতে সাড়া
পিছু আর ডেকোনা আছে খুব তাড়া,
কতদিন করিনা নদী খালে স্নান
ছেলেবেলা মনে হলে স্মৃতি হয় ম্লান,
ঝিনাই নদীর তীরে শংকরপূরে
গর্জনা,বীরসিং আজ খুব দূরে,
গালা,জামুরিয়া,ঘাটাইল,ভূয়াপুর
রাতে ঘুমে স্বপ্নেই হয়ে যায় ভোর,
শহরগোপীনপূরে দূহাজার সালে
শহিদ,মিজান,লিপি হৃদয় ঢালে,
আপনার জন ছিল, ব্যাস্ততা এসে
পথগুলো ভিন্ন তবু যাই ভালবেসে.....
০৯
সতর্ক সঙ্কেত
খালিদুর রহমান
০৯০৫২০২৫
অস্থায়ী জীবনের প্রতি পলে শঙ্কা
কখন যে বেজে যায় মৃত্যুর ডঙ্কা!
গাফলতি ছাড়েনা নফসের গোলামী
কোথা থেকে আসবে সহস্র সেলামী!
হিসেবের খাতা খোলে করে ফেলি যোগ
ভাগ্যের পরিহাস হয়নাতো করা ভোগ!
অঙ্কের ফলাফল বরাবর শুন্য
তবু কেন স্বপ্ন জোটেনাগো পূন্য!
জন্মের ব্যর্থতা স্রষ্টার ব্যবধান
সৃষ্টির চিন্তায় হয়ে যায় প্রাণদান!
গতকাল দূনিয়া,আজকেই পরকাল
অনন্ত সময়ের আকালই মহাকাল!
শুরু আছে শেষ নাই তার সাফল্য
আজ বলে কিছু নেই আগামীকল্য!
দাদা নেই,বাবা নেই, আমি আর কে?
সংশয় চারিদিকে চোখ মেলে দে!
কতজন এলো গেলো নিস্ফল ইমারত
কুরআন পাকে দেখ সহস্র এবারত!
সাবধান! সাবধান! নফসের তাবেদার!
সময়টা দামী হোক ফরমা বরদার!
১০
যুদ্ধ কোন খুনশুটি নয়,ধ্বংস!গোরস্তান!
টিপ্পনি নয়, মাথা থেকে খোল শিরস্তান,
দৈত্য যদি দেয় হানা দেয়,
শান্তি টুকু নেয় কেড়ে নেয়,
গল্পঝুলি শুন্য রবে
আকাশ,বাতাস কথা কবে,
গন্ধ বারুদ! কষ্ট শ্বাসে!
চাপড়ে কপাল হাহুতাশে!
রাস্তা ঘাটে রক্তে কাদা
থাকবেনাতো পার্শে দাদা,
লাশের পরে লাশ জমবে
বাঁচার আশা সব কমবে!
কে বাঁচাবে! কে বাঁচাবে!
পারলে দাদা সেই নাচাবে!
শান্তি চাহ! শান্তি চাহ!
সবার মিলের সে গান গাহ!
টিপ্পনীতে ভরবে না পেট
সূদের হারের বাড়ছে যে রেট,
কি তার হবে ঋণের বোঝা!
সূখী হওয়া নয়তো সোজা,
তিলে তিলে মরছি যখন
দেখছে নাতো দাদায় তখন!
কিসের দাদা! হলুদ! আদা!
গোল মরিচের গুঁড়ো সাদা!
নকল মাঝে আসল খোঁজা
এতো দেখি বিশাল বোঝা!
১০
যুদ্ধ কোন খুনশুটি নয়,ধ্বংস!গোরস্তান!
টিপ্পনি নয়, মাথা থেকে খোল শিরস্তান,
দৈত্য যদি দেয় হানা দেয়,
শান্তি টুকু নেয় কেড়ে নেয়,
গল্পঝুলি শুন্য রবে
আকাশ,বাতাস কথা কবে,
গন্ধ বারুদ! কষ্ট শ্বাসে!
চাপড়ে কপাল হাহুতাশে!
রাস্তা ঘাটে রক্তে কাদা
থাকবেনাতো পার্শে দাদা,
লাশের পরে লাশ জমবে
বাঁচার আশা সব কমবে!
কে বাঁচাবে! কে বাঁচাবে!
পারলে দাদা সেই নাচাবে!
শান্তি চাহ! শান্তি চাহ!
সবার মিলের সে গান গাহ!
টিপ্পনীতে ভরবে না পেট
সূদের হারের বাড়ছে যে রেট,
কি তার হবে ঋণের বোঝা!
সূখী হওয়া নয়তো সোজা,
তিলে তিলে মরছি যখন
দেখছে নাতো দাদায় তখন!
কিসের দাদা! হলুদ! আদা!
গোল মরিচের গুঁড়ো সাদা!
নকল মাঝে আসল খোঁজা
এতো দেখি বিশাল বোঝা!
১১
হাশরের ময়দান
খালিদুর রহমান
০১৯৯৫২৯১৯৭৯
হায়াতের নদী বহে নিরবধি
হঠাৎ আচমকা যাবে থমকে,
আশা ভরসার স্থল,ক্ষমতার গদী
মহুর্তে স্থির ,জ্ঞান চক্ষু ওঠে চমকে,
যমদূত দেখে ভুলে যাবো সব
নিরর্থক সংলাপ করে কলরব,
ব্যার্থ জন্ম মাগো আজ নিরুপায়
কবর দেশের যাত্রী ক্ষমা কর হায়,
ঋণের ভারে অকেজো বাম স্কন্ধ
আজ ভুলে গেছি সব দ্বিধাদ্বন্দ্ব,
কতজনে কথা,কতসুর ভুলে গেছি
জীবনের আশা সব মিছেমিছি,
কবর,হাশর,মিজান,পুলসিরাত
আজ কি নসীব হবে নবীর শাফায়াত?
মালিকের কাছে লজ্জায় নিশ্চুপ
ফিরিবার পথ নাহি,পুড়ে ছাই হল রুপ,
দাউদাউ অগ্নিতে ঠাঁই, মৃত্যুর যবনিকাপাত
লোভ, হিংসারা সমূলে কূপোকাত,
অহঙ্কারের বিষ্ঠা ছড়াতেছে দূর্গন্ধ
আজ কেটে গেছে সব দ্বিধাদ্বন্দ্ব,
মালিকের কাছে ক্ষমা চাহি
ক্ষমার আধার,তারই গান গাহি,
পিতা,মাতা,স্ত্রী,সন্তান,পরিজন
অচীন সবাই বুঝে গেছে এই মন!
সূর্যের তাপে গলে মগজের ঝোল
দূর্গন্ধের চোটে পেটে লাগে তালগোল,
লাখো জনতার ঢল, পাবে কর্মের ফল
আমল নামা নাই বাকী আজ চোখে জল,
১২
তোমার চোখে বহমান নদী
সবুজ ঘাসের তৃণভূমি
আঁকাবাকা রাজপথ
আনবিক বোমায় ক্ষতবিক্ষত!
জনতার প্লাবন ধেঁয়ে আসে,
খেই হারানোর ভাষা দূর্বোধ্য!
ফসলের মাঠে খাঁখাঁ রোদ্দুর!
অযাচিত প্রেম অস্পৃশ্য!
দূমড়ে মুচড়ে যাওয়া মানবতা!
গণতন্ত্রের খপ্পরে কাঁদে মজলুম,
প্রথম কিবলার কথা ভেবে রোমাঞ্চিত!
মাহদীর সেনা হতে সহস্র যুবকের অঙ্গীকার!
কালো পতাকাবাহী সেনাপতি
তোমার প্রতীক্ষায় শহিদি কাফেলা!!
১৩
আমি কোন মানচিত্র নই যে সমগ্র বিশ্ব দাঁড়িয়ে থাকবে আমার ওপর,
আমি বদলে যাচ্ছি ক্রমশ,
আজকাল কারো সাথে মিশতে ভাল্লাগেনা,
বস্তুবাদী দূনিয়ার বাসিন্দারা স্বার্থের জালে বন্দি করে বন্ধুত্বের মত নিঃস্বার্থ ভালবাসাকেও।
সমাজ সংসার থেকে নিজেকে গুটিয়ে
নেবার চেষ্টায় কখনো বাদ সাধে
মরিচিকাময় ভালবাসা!
নিজের অস্তিত্বের সংকট সয়েও
হাসিমুখে ভাল থাকার অভিনয় রপ্ত,
পাপ পঙ্কিলতা গায়ে মেখে হাসির ঝিলিক!
জাহান্নামের ধূম্রজালে নাসারন্ধ্র বন্ধ
দম আটকে রুহ কবচের জোগাড়,
কেন! কি জন্য বৃথা আস্ফাল?
আমার প্রস্থানে কে স্মরিবে আমায়!
যে যার স্থলে কিংকর্তব্যবিমূঢ়!
১৪
পোড়ামাটির ফলকে লেখা ইতিহাস
মাটি চাপা পরে যায় শত অভিলাষ,
অজানা দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয় আসমান
কত স্মৃতি, কত কথা হৃদয়ে ভাসমান,
একই আকাশের নিচে মানুষেরা ভিন্ন
স্বার্থের তরে সম্পর্কের জাল হয় ছিন্ন,
তবুও মানুষ গড়ে স্বপ্নের ইমারত
ভুলে যায় ছন্দ,তাল,লয়,ইবারত,
১৫
বয়সের ঝড়ে কুপোকাত যারা
সাফল্য ভোগ করেনাতো তারা,
বয়সের ভারে পিঠ বেঁকে গেলে
যায় আসেনাতো কিছু খেলে না খেলে,
কত ধানে কত চাল
হুজুগের সাথে মেলেনা তাল,
জ্বি হুজুর হতে হও সাবধান
চিল নিয়ে যায়নাতো কান,
যুবকের চোখে জল কভু আসে
বিচলিত প্রাণে কত স্মৃতি ভাসে,
প্রেম আসে প্রেম যায় বর্ধিত হয় কাল
আকালের চোটে কেটে যায় তাল,
এইতো জীবন চলছে যা চলবেই
দূঃশাসনের ভিত সেতো টলবেই,
ন্যায়,নীতি,সংগ্রাম আজো অস্তিত্ব
আকাঙ্খায় যদি থাকে শুধু বিত্ত,
মানুষের মত মানুষ হও, হে বৎস্য
ভেবে দেখ জন্মের কি উৎস.....
৫৬৭
১০০১২০২৫
১৬
নির্জনতার কারাগারে আজ
নিজেকে করেছি বন্দি,
দেখা হল ঢের, ভাগ্যের সাথে
করেছিগো তাই সন্ধি,
হারাধনে লোভ,পাপে উন্মুখ
নফসের তাবেদারী,
কালো হল সাদা,দিই শত বাঁধা,
মানেনাতো কোন আড়ি,
বছরের পর বছর ঘুরিয়া,
হায়াতের নদী গেল যে মরিয়া,
ধ্যান তবু কাটেনাতো ধ্বংসের,
মুসলিম জাতি এখনো কি ঘুমে?
তোল দেখি শমসের,
কানপেতে শোন গাজোয়ায়ে হিন্দ,
আসিতেছে ঐ ধেঁয়ে,
বলিদানে নিজ মস্তিষ্কটা তুমি
নেবে কার কাছে চেয়ে?
রাসুলের বাণী মিছে কভূ নয়,
বদরী সাহাবীর মান
ইসলাম রবী হয় বিমলীন,
এসো জান করি কুরবান!
অপসংস্কৃতি রন্ধ্রে রন্ধ্রে,
ফ্যাতনা ছড়াতেছে দাজ্জাল,
এখনও কি ঘুমে? ইসামসীহ এসে গেল বলে আজ নয় কাল.....
খালিদুর রহমানের কবিতা ৫৬৬
৩১১২২০২৪
১৭
বুভূক্ষের আহাজারি কে কবে শুনেছে!
নিত্য বলিদানের অলঙ্কারিক অভিব্যাক্তি!
নফসের গোলামী জিঞ্জিরে আবদ্ধ
মানবতা নিলামে উঠেছে,ক্রেতাদের নাভিশ্বাস; সূদীর্ঘ বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে
দেখা হয় শত খেকশেয়ালের সাথে।
মানব-মানবীর আদিম প্রেমের নেশায়
গন্ধম খেকোদের অভিশপ্ত জীবনের
ক্লান্তির নিঃশ্বাসে ভারী হয় আসমান।
আঘাতে আঘাতে জর্জরিত হৃদয়ের আকুতি কেহ নাহি শুনে,কেহ নাহি দেখে।
তবুও জীবন চলছে,চলবে।
অক্টোপাশের মত জড়িয়ে থাকা দুঃখের স্মৃতিময় প্রহরের গননায় কার মস্তিষ্কের নিউরনে বাজে সাইরেন?
৫৬৫
১৮
আহ্নিক গতি, বার্ষিক গতির ছন্দ
কবিতায় বাঁচে জীবনানন্দ,
দূঃখ,শোকের বার্তা ঘুরছে অবিরাম
সুক্ষ প্রতিবাদী সুকান্ত তার নাম,
নাগরিক কবি শামসুর রাহমান
কোলাহল দেখে স্নায়ূ হয় টানটান,
আর্তমানবতা পদতলে হলে পিষ্ট
বিদ্রোহী নজরুল নবউদ্যমে হয় সৃষ্ট,
বাঙলার কবি প্রবাসের বুকে মাইকেল
ঘুম ঘোরে আঁকে সনেটের সাইকেল,
ছন্দের যাদূ দেখালেন কবি সত্যেন দত্ত
সুকূমার রায় হাসিখুশি কবি সত্য,
কবিগুরু রবীঠাকুরের জয়গান
কালে কালে বাংলার বাড়িয়েছে মান।
৫৬৪
২৭১১২০২৪
১৯
দাজ্জালী ফিতনা চারিদিকে চলমান
চোখ,কান খোলা রাখো ওহে মুসলমান,
ইমান হরণে সব এক হয়ে ইবলীস
চেলা,চামুন্ডুরা কানে কানে ফিসফিস,
ব্যাভিচার,যিনা যেন আজকাল ডালভাত
ইন্টারনেটে তাই কেটে যায় সারারাত,
ধ্বংসাবশেষে আজো কথা বলে নবী লূত
ভোগে নয় ত্যাগে সুখ হয়না যে মন:পূত,
সফলতা আজ আসে শতকোটি অর্থে
হালাল হারামে নয়, পেলে যাই বর্তে,
মায়ামমতার স্থলে আজ শুধু স্বার্থ
পেলে ভাল, না পেলে যে হয়ে যাই ব্যার্থ,
বানিজ্য, ক্ষমতা লকলকে লোভ জিভ
গুনাহ যেন কিছু নয় হইনাতো অপ্রতিভ,
নামাযেতে খুশু খুজু আজ কিছু নেই বাকী
নগদ যা পেয়ে যাই আর সবই শুধু ফাঁকি
,
লেবাসের প্রাচুর্য ভন্ডামী একশেষ
সততার কোন কিছু নেই যেন এক রেশ,
আবুবকর,উসমান, উমর,আলী মুসলিম
ত্যাগে তারা মহীয়ান উষ্ণতা হয় হিম,
মোনাফেকি অন্তরে কি হবে যে পরকাল
দূনিয়ার মোহে পরে হারায় যে লয় তাল...
২০
জুলাই মানে বুক পেঁতে গুলি খাওয়া
জুলাইয়েই ঘটে জনতাকে সশস্ত্র ধাওয়া,
তরতাঁজা প্রাণ অকাতরে দান রক্তের ঘ্রাণ
লালে লাল রাজপথে মায়েদের মুখ ম্লান,
বুকফাটা কান্নায় ভারী হয় আসমান
স্বাধীনতা কেন হাওয়ায় ভাসমান?
রক্তে আগুন লাগে সহস্র কিশোরের গাঁয়
শহীদী তামান্না জাগে কে কোথায় আয়,
অধিকার বঞ্চিত জেগেছে আজ নাই ভয়
যত অনিয়ম,দূর্ণীতি আজ হবে ক্ষয়,
শহীদি রক্তের দাগ লুকানোর অপচেষ্টা
রাজনীতি ঘৃণ্য অপকর্ম! কেবলি তেষ্টা,
ক্ষমতার মোহে ঝরে যে তাজা খুন
কে নেবে দায় মাতৃগর্ভের যে ভ্রুণ
অগোচরে আত্মাহুতি দেয়
২১
হঠাই আলোর ঝলকানিতে চোখ ধাঁধিয়ে গেলে নিরুদ্দেশ পথ খুঁজে পাওয়া ভার,
চোরাবালিতে ডুবে যায় আশার বাণী
ইমানের দৈন্যদশায় ম্রিয়মান মগজ,
জান্নাত সুদূর পরাহত, স্রষ্টার ক্রোধে
দাবানল দাউদাউ করে জালিয়ে দিলো যে ক্ষমতার দম্ভ, আমরা তারই পূজারী,
হীরা ভেবে কাঁচের সৌন্দর্যের কাছে পরাজয়,
জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরির সম্মুখে টিকেনা সভ্যতা,
ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন বাতাসের তীব্রতায় শ্বাসরুদ্ধ,
পশু শাবকের মত তিড়িং বিড়িং নাচের মুদ্রায় হাস্যস্পদ জনতা......
২২
নির্জনতার কারাগারে আজ
নিজেকে করেছি বন্দি,
দেখা হল ঢের, ভাগ্যের সাথে
করেছিগো তাই সন্ধি,
হারাধনে লোভ,পাপে উন্মুখ
নফসের তাবেদারী,
কালো হল সাদা,দিই শত বাঁধা,
মানেনাতো কোন আড়ি,
বছরের পর বছর ঘুরিয়া,
হায়াতের নদী গেল যে মরিয়া,
ধ্যান তবু কাটেনাতো ধ্বংসের,
মুসলিম জাতি এখনো কি ঘুমে?
তোল দেখি শমসের,
কানপেতে শোন গাজোয়ায়ে হিন্দ,
আসিতেছে ঐ ধেঁয়ে,
বলিদানে নিজ মস্তিষ্কটা তুমি
নেবে কার কাছে চেয়ে?
রাসুলের বাণী মিছে কভূ নয়,
বদরী সাহাবীর মান
ইসলাম রবী হয় বিমলীন,
এসো জান করি কুরবান!
অপসংস্কৃতি রন্ধ্রে রন্ধ্রে,
ফ্যাতনা ছড়াতেছে দাজ্জাল,
এখনও কি ঘুমে? ইসামসীহ এসে গেল বলে আজ নয় কাল.....
খালিদুর রহমানের কবিতা ৫৬৬
৩১১২২০২৪
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন